বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা জারি
বিডিবিজনিউজ:
ইসলামী ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (আইবিআরপিডি) জারিকৃত নতুন নির্দেশনায় সুদমুক্ত ঋণ, প্রকৃত সেবার বিপরীতে নির্ধারিত ফি, শরিয়াহসম্মত লেনদেন, গ্রাহক সুরক্ষা, বিলম্বিত পরিশোধের অর্থ দাতব্য খাতে প্রদান, শরিয়াহবিরোধী ব্যবসা ও লেনদেন বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং শক্তিশালী শরিয়াহ তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কারদে হাসানা ও উজরাহভিত্তিক ইসলামী ক্রেডিট কার্ডে গ্রাহকের বকেয়া অর্থের পরিমাণ বা সময়ের সঙ্গে ব্যাংকের আয় বাড়তে পারবে না। ঋণসংশ্লিষ্ট ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয় পর্যন্ত নেওয়া যাবে এবং কোনো ধরনের সুদ বা ঋণের ওপর মুনাফা আরোপ করা যাবে না। বিলম্বিত পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে রাখা যাবে না; তা দাতব্য হিসাবে দিতে হবে। পাশাপাশি মদ, জুয়া, প্রচলিত বিমা, সুদভিত্তিক আর্থিক সেবা, প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনসহ শরিয়াহবিরোধী ব্যবসায় কার্ডের ব্যবহার প্রযুক্তিগতভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনায় ইসলামী ক্রেডিট কার্ডকে শুধু প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পৃথক শরিয়াহ কাঠামোর অধীনে পরিচালিত একটি অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কার্ডের পণ্য কাঠামো, ফি ও চার্জ, গ্রাহক নির্বাচন, ক্রেডিট সীমা, নগদ উত্তোলন, বিলিং, খেলাপি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকের অভিযোগ, প্রতারণা প্রতিরোধ, ব্যবসায়ী নির্বাচন, শরিয়াহ নিরীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিল—সব ক্ষেত্রেই বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কারদে হাসানা ও উজরাহ হবে মূল ভিত্তি
নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের প্রধান কাঠামো হবে কারদে হাসানা ও উজরাহ। কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংক কোনো ব্যবসায়ীর পাওনা পরিশোধ করলে বা গ্রাহক নগদ অর্থ গ্রহণ করলে তা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ঋণের বিপরীতে ব্যাংক কোনো মুনাফা নিতে পারবে না।
তবে কার্ড ইস্যু, রক্ষণাবেক্ষণ, লেনদেন প্রক্রিয়াকরণসহ প্রকৃত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি নেওয়া যাবে। এসব ফি ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে তা প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ফি এমনভাবে নির্ধারণ করা যাবে না, যার পরিমাণ গ্রাহকের বকেয়া অর্থ, ঋণের মেয়াদ বা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে।
ফি ও চার্জ তিন শ্রেণিতে
ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের ফি ও চার্জকে মূলত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
শ্রেণি-এ: ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন নির্দিষ্ট কিছু ফি। এসব ফিতে চুক্তি অনুযায়ী মুনাফার উপাদান থাকতে পারে।
শ্রেণি-বি: ঋণসংশ্লিষ্ট ফি। এসব ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয় পর্যন্ত নেওয়া যাবে এবং এর মধ্যে কোনো মুনাফা রাখা যাবে না।
শ্রেণি-সি: নিষিদ্ধ ফি। বকেয়া অর্থ, ঋণের মেয়াদ বা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়ে—এমন ফি এবং প্রকৃত ব্যয়ের অতিরিক্ত ঋণসংশ্লিষ্ট চার্জ এ শ্রেণির আওতায় পড়বে।
ব্যাংককে প্রতিটি ঋণসংশ্লিষ্ট ফি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তার লিখিত পদ্ধতি সংরক্ষণ করতে হবে এবং শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।
বিলম্বের অর্থ ব্যাংকের আয় নয়
ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে নিরুৎসাহমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিলম্বজনিত অর্থ নেওয়া যেতে পারে। তবে এই অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে গণ্য হবে না।
গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তির সময়ই এ বিষয়ে সম্মতি নিতে হবে এবং সংগৃহীত পুরো অর্থ দাতব্য খাতে দিতে হবে। এ জন্য ব্যাংককে পৃথক দাতব্য হিসাব রাখতে হবে এবং অর্থের উৎস ও ব্যবহার সংরক্ষণ করতে হবে।
এ ছাড়া কোনো লেনদেন পরবর্তীতে শরিয়াহবহির্ভূত হিসেবে শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট আয় ব্যাংকের বণ্টনযোগ্য মুনাফা থেকে বাদ দিয়ে দাতব্য হিসাবে জমা দিতে হবে।
শরিয়াহবিরোধী ব্যবসায় কার্ড ব্যবহার বন্ধ
ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে শরিয়াহবিরোধী ব্যবসা বা সেবায় অর্থ পরিশোধ ঠেকাতে ব্যবসায়ী শ্রেণিবিন্যাস কোড বা এমসিসিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সাধারণভাবে যেসব ব্যবসা বা লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্ড ব্যবহার বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- মদ ও মদজাত পণ্যের ব্যবসা;
- জুয়া, বাজি ও ক্যাসিনো;
- প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন;
- নাইটক্লাব ও বার;
- সুদভিত্তিক আর্থিক সেবা;
- প্রচলিত বিমা;
- শুকরের মাংস-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা;
- জ্যোতিষ ও ভাগ্য গণনাসেবা;
- সুদভিত্তিক বন্ধকী ব্যবসা;
- ক্রিপ্টো সম্পদ ও জল্পনাভিত্তিক মার্জিন বা পার্থক্যচুক্তির ব্যবসা।
কোনো ব্যবসায়ীর নিষিদ্ধ শ্রেণির এমসিসি থাকলে লেনদেন অনুমোদনের পর্যায়েই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নগদ উত্তোলনে সীমা
ইসলামী ক্রেডিট কার্ড থেকে নগদ উত্তোলনের সুবিধা থাকলে মোট নগদ উত্তোলনের সীমা কার্ডের মোট ক্রেডিট সীমার ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ নেওয়ার নামে বেশি অঙ্কের লেনদেন দেখানো হচ্ছে কি না, তা ব্যাংককে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডও রূপান্তর করা যাবে
প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডকে ইসলামী ক্রেডিট কার্ডে রূপান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রচলিত কার্ডে জমা হওয়া সুদ নতুন ইসলামী কার্ডের দায়ের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না।
শুধু প্রকৃত মূল অর্থ নতুন কার্ডে স্থানান্তর করা যাবে এবং নতুন শরিয়াহভিত্তিক চুক্তি করতে হবে। রূপান্তর প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির অনুমোদিত হতে হবে।
গ্রাহক নির্বাচনে আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই
ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের আবেদনকারীকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং কার্ডের দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত ও স্বাধীন আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, বৈধ ই-টিআইএন এবং প্রয়োজনীয় ঋণতথ্য যাচাই করতে হবে।
কার্ড দেওয়ার আগে গ্রাহকের আয়, পরিশোধ সক্ষমতা, ঋণযোগ্যতা এবং সিআইবি তথ্য যাচাই করার নির্দেশনা রয়েছে। গ্রাহকের অন্যান্য প্রচলিত বা ইসলামী ক্রেডিট কার্ড থাকলে তার তথ্যও বিবেচনায় নিতে হবে।
গ্রাহককে আগেই জানাতে হবে সব তথ্য
কার্ড ইস্যুর আগে গ্রাহককে পণ্য প্রকাশনা বিবরণী দিতে হবে। এতে কার্ডের শরিয়াহ কাঠামো, সব ফি ও চার্জ, ফি নির্ধারণের পদ্ধতি, ন্যূনতম পরিশোধযোগ্য অর্থ, পরিশোধের সময়সীমা এবং বিলম্বিত পরিশোধের ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
কার্ড পাওয়ার পর গ্রাহকের জন্য অন্তত পাঁচ পূর্ণ কর্মদিবসের প্রত্যাহারকাল রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। এ সময়ে গ্রাহক কোনো খরচ বা জরিমানা ছাড়াই চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
বিলিংয়ে স্বচ্ছতা
ব্যাংককে প্রতি মাসে গ্রাহককে হিসাব বিবরণী দিতে হবে। এতে লেনদেন, প্রযোজ্য ফি, বিলম্বজনিত অর্থ, পরিশোধের শেষ তারিখ এবং পরিশোধের পদ্ধতি উল্লেখ করতে হবে।
বিলিং বিবরণী নির্ধারিত পরিশোধের তারিখের অন্তত ১৪ ক্যালেন্ডার দিন আগে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
গ্রাহকের অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তি
প্রতিটি ব্যাংককে ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের জন্য কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা রাখতে হবে। অভিযোগ গ্রহণের পর গ্রাহককে একটি অভিযোগ বা নথি নম্বর দিতে হবে।
কোনো লেনদেন নিয়ে বিরোধ থাকলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত অর্থ পরিশোধে গ্রাহককে বাধ্য করা যাবে না। ওই অর্থের ওপর বিলম্বজনিত অর্থ বা অন্য কোনো চার্জও আরোপ করা যাবে না।
প্রতারণা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা
ইসলামী ক্রেডিট কার্ডে প্রতারণা প্রতিরোধে ব্যাংককে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। ই-কমার্স ও দেশীয় নন-এনএফসি লেনদেনে দ্বি-স্তরীয় পরিচয় যাচাই, সব কার্ড লেনদেনে তাৎক্ষণিক বার্তা বা ই-মেইল সতর্কতা, ইএমভি চিপ প্রযুক্তি এবং সার্বক্ষণিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
কার্ড হারানো বা চুরির ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ ও কার্ড বন্ধের সুবিধা রাখতে হবে। গ্রাহক ব্যাংককে অবহিত করার পর কোনো অননুমোদিত লেনদেন হলে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী ব্যাংককে দায় নিতে হবে।
তাকাফুলের সুযোগ
কার্ড হারানো, চুরি বা কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ক্ষতির ক্ষেত্রে গ্রাহকের সম্মতিতে তাকাফুল সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রচলিত বিমা ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে দেওয়া বা সংযুক্ত করা যাবে না।
শরিয়াহ তদারকি আরও জোরদার
ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের কার্যক্রমে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সরাসরি তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কমিটিকে অন্তত বছরে একবার প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয় নির্ধারণের পদ্ধতি, নিষিদ্ধ ও সীমিত ব্যবসায়ী শ্রেণির তালিকা, ইবরা নীতি, দাতব্য হিসাব এবং কার্ডের প্রচারমূলক উপকরণ পর্যালোচনা ও অনুমোদন করতে হবে।
এ ছাড়া বছরে অন্তত একবার ইসলামী ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমের পৃথক শরিয়াহ নিরীক্ষা করতে হবে এবং এর প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে দিতে হবে।
পাঁচ বছর নথি সংরক্ষণ
কার্ডের লেনদেন ও অনুমোদনের তথ্য, হিসাব বিবরণী, গ্রাহকের সম্মতি, পণ্য প্রকাশনা বিবরণী, শরিয়াহ অনুমোদন, প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের হিসাব এবং দাতব্য হিসাবের নথি লেনদেন বা কার্ড হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।
নিষ্ক্রিয় কার্ডের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা
গ্রাহক হেল্পলাইন, ই-মেইল, ওয়েবসাইট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ বা শাখার মাধ্যমে কার্ড বন্ধের আবেদন করতে পারবেন। কোনো বকেয়া না থাকলে আবেদন পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড হিসাব বন্ধ করতে হবে।
১২ মাস কোনো লেনদেন না হলে কার্ডকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ২৪ মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর গ্রাহককে জানিয়ে কার্ড বন্ধ করতে হবে, যদি না গ্রাহক তা চালু রাখার অনুরোধ করেন।
ব্যাংকের আয় ও হিসাবেও আলাদা নজর
নির্দেশনা অনুযায়ী, শ্রেণি-বি ফি থেকে আদায়কৃত অর্থ এবং বিলম্বজনিত অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। একইভাবে শরিয়াহবহির্ভূত হিসেবে শনাক্ত আয় বণ্টনযোগ্য মুনাফার বাইরে রাখতে হবে।
প্রতিটি ব্যাংককে আর্থিক বছর শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে ইসলামী ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমের সমন্বিত প্রতিবেদন দিতে হবে। এতে ফি নির্ধারণের পদ্ধতি, আদায়কৃত ও প্রকৃত ব্যয়, দাতব্য হিসাবে জমা ও বিতরণ করা অর্থ, নিষিদ্ধ ব্যবসায়ী শ্রেণির পরিবর্তন এবং শরিয়াহ নিরীক্ষার ফলাফল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার সার্বিক লক্ষ্য হলো ইসলামী ক্রেডিট কার্ডে সুদভিত্তিক ঋণব্যবস্থার পরিবর্তে সুদমুক্ত ঋণ, স্বচ্ছ ও প্রকৃত সেবাভিত্তিক ফি, শরিয়াহসম্মত লেনদেন এবং শক্তিশালী গ্রাহক ও শরিয়াহ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কার্ডের মাধ্যমে শরিয়াহবিরোধী ব্যবসা ও লেনদেন বন্ধ, ব্যাংকের আয় ও দাতব্য অর্থের পৃথক হিসাব এবং নিয়মিত শরিয়াহ নিরীক্ষার মাধ্যমে ইসলামী ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানোর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
