loader image
শিরোনাম

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের এমডি নিয়োগে অব্যবহিত পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালায় সংশোধন এনেছে সরকার। নতুন নীতিমালায় এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে কমপক্ষে দুই বছরের কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত বিশেষ বিবেচনায় শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সুনামসম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ সুযোগ দেওয়া যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের যোগ্যতা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, এমডি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৪৫ বছর হতে হবে। তবে বয়স ৬৫ বছর অতিক্রম করলে এ পদে নিয়োগের সুযোগ থাকবে না। এমডি পদে তিন বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে। প্রয়োজনে সরকার ও পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ অনুযায়ী পুনর্নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।

এমডি পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। তবে অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা অথবা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত শিক্ষায় যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি নির্ধারিত ফলাফল ও সিজিপিএ-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত অথবা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/সিইও পদের অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তারা যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সুনামসম্পন্ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রার্থীর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। চাকরিজীবনে সততা, সুনাম ও সন্তোষজনক কর্ম-অভিজ্ঞতার রেকর্ড থাকতে হবে। তাঁকে দূরদর্শী, কৌশলগত পরিকল্পনায় দক্ষ এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে হবে। একই সঙ্গে অন্য কোনো ব্যবসা বা পেশায় নিয়োজিত থাকা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকা যাবে না।

আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণখেলাপি হওয়া, আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকা, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হওয়া কিংবা করখেলাপি হওয়া যাবে না। প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা থাকা চলবে না। এ ছাড়া কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের কারণে পদচ্যুত বা অপসারিত হওয়ার রেকর্ড থাকলেও তিনি অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

নীতিমালায় এমডি নিয়োগের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বাছাই কমিটি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, সুনাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান বিবেচনা করবে। এ সময় প্রার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হবে।

বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিক্রমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করবে। এমডির বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা, চাকরির শর্তাবলি ও কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের কাঠামো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্ধারণ করবে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত কর্মকর্তাকে এমডি পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করতে হলে তাঁর কমপক্ষে ২০ বছরের কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যার মধ্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও সুশাসনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ রেখে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নমনীয়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top